পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীনস্ত সকল কার্যালয়কে শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সকল কার্যালয়কে শতভাগ তামাক ও ধূমপান মুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আমারা শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম।
তিনি জানান, তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় ৭০০০ ধরণের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যার মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরণের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে ও মৃত্যু ঘটায়।
বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায় এবং আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২.৭% ও সরকারী কার্যালয়ে ২১.৬% অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরও জানান,
বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে, এর মধ্যে ধূমপান করে ১ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ এবং প্রায় ৪ কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি, ৪২ শতাংশ প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষ কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। তাই পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সকলকে রক্ষায় সকল পাবলিক প্লেসকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে।
এ সময় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে সকলকে রক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানান বক্তারা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারি ডাঃ নায়লা পারভিন, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ।