এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ফল আশানুরূপ হয়েছে কি না, তা জানতে শিক্ষার্থীদের এখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। ফলে অসন্তুষ্ট হলে আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকেই খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। এ জন্য প্রতিটি পত্রে ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে ফল প্রকাশ করে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে। এ জন্য যে কোনো অপারেটরের মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং সবশেষে স্পেস দিয়ে 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
যেমন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের এসএমএসের ফরম্যাট হবে- SSC DHA ROLL 2026. মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের লিখতে হবে- SSC MAD ROLL 2026. আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের লিখতে হবে- SSC TEC ROLL 2026.
ফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থী আশানুরূপ ফল পাবে না, তারা মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এবার অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে। এ জন্য [পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পোর্টালে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর ড্রপডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। আবেদনের সময় স্ক্রিনে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি পত্রে ১৫০ টাকা করে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। ফি পরিশোধ করা যাবে বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে। ফি দেওয়ার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পর আরও কোনো বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করতে চাইলে একইভাবে নতুন বিষয় যুক্ত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তবে ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের ফি এখনো দেওয়া হয়নি, সেগুলোর আবেদন প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
একবার ফি জমা দেওয়ার পর নির্বাচিত বিষয় বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, এবার হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের কোনো আবেদন নেবে না শিক্ষা বোর্ডগুলো।