গোপালগঞ্জে ১২ বছরের শিশু মো. তালহা ওরফে মুহিন হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি লিয়াকত আলী মোল্লাকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. আমিন উদ্দিন ও মো. শিহাব মোল্লা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন শাওন মোল্লা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মায়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বিস্কুট ও কেক কিনতে যায় শিশু তালহা। পরে খালের পাড়ে মাছ ধরা দেখতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা আলেয়া বেগম গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তালহার নিখোঁজের ঘটনায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
পরে আমিন উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘরের একটি ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশু তালহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. মানজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাওন মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি লিয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা।
অন্যদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত তালহার পরিবারের সদস্যরা। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।